June 15, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, October 3rd, 2023, 8:16 pm

১২০ ডলফিনের মৃত্যু নিয়ে যা বললেন বিশেষজ্ঞরা

অনলাইন ডেস্ক :

গত সপ্তাহে ব্রাজিলের আমাজন নদীর একটি উপনদীতে ১২০টি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, মারাত্মক খরা এবং তাপের কারণে ওই ডলফিনগুলো মারা গেছে। ব্রাজিলের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণা গ্রুপ মামিরাউয়া ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার টেফে লেকের আশপাশে আরো দুটি মৃত ডলফিন ভেসে উঠেছে। দেশটির বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পানির তাপমাত্রার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ডলফিনগুলোর। কারণ গত সপ্তাহ থেকে টেফে লেক অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছিল।

শুধু ডলফিন নয়, আরো হাজার হাজার মাছও মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। ব্রাজিলের মামিরাউয়া ইনস্টিটিউটের গবেষক মরিয়ম মারমনটেল বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা ১২০টি মৃত ডলফিন শনাক্ত করেছি।’ আমাজন নদীর ডলফিন দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। দেহের রং গোলাপি। এরা মিঠা পানিতে বসবাস করে। যাদের শুধু দক্ষিণ আমেরিকার নদীগুলোতে পাওয়া যায় এবং পৃথিবীতে অবশিষ্ট কিছু মিঠা পানির ডলফিন প্রজাতির মধ্যে একটি। ধীর প্রজনন চক্রের কারণে তাদের সংখ্যা হুমকির মুখে পড়েছে। মারমনটেল আরো বলেছেন, প্রতি ১০টি মৃতদেহের মধ্যে প্রায় আটটিই গোলাপি রঙের ডলফিন ছিল।

যাদের ব্রাজিলে ‘বোটো’ বলে ডাকা হয়। ‘টুকুক্সি’ নামক আরো বোটো এবং ধূসর নদীর ডলফিন আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার-এর লাল তালিকায় রয়েছে। এরা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। এদিকে ব্রাজিলের চিকো মেন্ডেস ইনস্টিটিউট ফর বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন হ্রদে এখনো জীবিত ডলফিনগুলোকে উদ্ধার করতে পশুচিকিৎসক এবং জলজ স্তন্যপায়ী বিশেষজ্ঞদের দল ছুটে এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে জানেন না, ডলফিনের মৃত্যুর জন্য খরা এবং তাপ দায়ী কি না। মৃত্যুর অন্য কারণগুলো তাই এখনই বাদ দেননি তারা। যেমন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণেও ডলফিনের মৃত্যু হতে পারে।

লেক টেফের পানির তাপমাত্রা গত সপ্তাহে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল, তখন অন্তত ৭০টি মৃত ডলফিন দেখা যায়। যা বছরের এই সময়ের গড় তাপমাত্রা থেকে ১০ ডিগ্রি বেশি। পানির তাপমাত্রা কয়েক দিনের জন্য কমলেও তা রোববার আবার বেড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বেশ উদ্বিগ্ন। পরিবেশকর্মীরা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অস্বাভাবিক গরমকে দায়ী করেছেন। যার কারণে খরা এবং তাপপ্রবাহ হচ্ছে এবং পরিবেশ গুরুতর করে তুলছে। মামিরাউয়া ইনস্টিটিউটের ভূ-স্থানিক সমন্বয়কারী আয়ান ফ্লিসম্যান বলেছেন, খরা আমাজনের এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এই অঞ্চলে ৬০ হাজার বাসিন্দার বসবাস। সূত্র : আলজাজিরা